পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগোষ্ঠীর আয়কর মওকুফ, সশস্ত্র সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ‘মাতৃভূমির সুরক্ষা’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে শুরু হয়ে টিএসসি ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। পার্বত্য অঞ্চলে সকল নাগরিকের সমান সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন, “পাহাড়ের দুর্গম পরিবেশ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে স্থায়ী বাঙালিদের আয়কর মওকুফের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অপতৎপরতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেনা ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও জানান তিনি।
সমাবেশে অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার বলেন, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং ২০২৩ সালের আয়কর আইনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কর অব্যাহতির সুবিধা থাকলেও বাঙালিরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পার্বত্য অঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ বাঙালি পরিবার এখনো দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে, অথচ তাদের ওপরই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজির মূল চাপ পড়ে। এমন অবস্থায় বাঙালিদের ওপর করের বোঝা চাপানো চরম বৈষম্যমূলক।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাহাড় ও সমতলে ‘এক দেশ, এক আইন’ নীতি কার্যকর করে অতিদ্রুত এই ১১ দফা দাবি মেনে না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংগঠনের উল্লেখযোগ্য ১১ দফা দাবি: ১. পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠীর সম-সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। ২. পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। ৩. স্থায়ী বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আয়কর মওকুফের আওতায় আনা। ৪. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ সম্বোধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। ৫. জেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফসহ সকল সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। ৬. সংবাদমাধ্যম ও সরকারি দপ্তরে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। ৭. পাহাড় ও সমতলে একই আইন ও সমঅধিকার বাস্তবায়ন। ৮. পার্বত্য অঞ্চলে একটি মাউন্টেন ডিভিশন ও বিমানবন্দর স্থাপন। ৯. সীমান্ত সড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা ও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ। ১০. পার্বত্য জেলা পরিষদের ৩য় ও ৪থ শ্রেণির পদে স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালু করা। ১১. অনতিবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা।
মন্তব্য করুন