
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গণসংহতি আন্দোলনের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যে নামটি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত, তা হলো ময়না আক্তার। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত ‘অগ্নি কন্যা’ নামে। সাহসী উচ্চারণ, মাঠের রাজনীতিতে নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণে অল্প সময়েই তিনি উঠে এসেছেন উপজেলার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বাঞ্ছারামপুরে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করার পর থেকেই তার আস্থাভাজন হিসেবে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন ময়না আক্তার। ভেলানগর ইউনিয়নের ছলিমাবাদ গ্রামের এই নারী নেত্রী শুরু থেকেই মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে জোনায়েদ সাকির রাজনীতি, দর্শন ও আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে তার এই ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উঠান বৈঠক, পথসভা, গ্রামসভা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তিনি। প্রচারণার প্রতিটি পর্যায়ে তার সাবলীল বক্তব্য ও সংগঠকসুলভ আচরণ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিজের এলাকা ছলিমাবাদ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পুরো বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে তার সাংগঠনিক কার্যক্রম।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়না আক্তারের উত্থান বাঞ্ছারামপুরের রাজনীতিতে নারী অংশগ্রহণকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যেখানে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত, সেখানে তিনি নির্ভীকভাবে মাঠে নেমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সক্রিয়তায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে নারী ভোটারদের মধ্যেও।
জোনায়েদ সাকির প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। দলের ভেতরেও একজন পরিশ্রমী ও নিবেদিত সংগঠক হিসেবে তার অবস্থান ক্রমেই শক্ত হচ্ছে। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গণসংহতি আন্দোলনের নারী নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছেন ময়না আক্তার—এমনটাই বলছেন দলীয় সূত্র।
তবে নিজেকে কখনোই বড় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান না তিনি। ময়না আক্তারের ভাষায়, “আমি কোনো নেতা নই, আমি জোনায়েদ সাকির একজন কর্মী। খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার আর শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নই আমাকে রাজনীতিতে এনেছে।”
তার এই বিনয়ী মনোভাব ও মাঠের কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে। আজ বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন—মানুষ তাকে চিনে ‘অগ্নি কন্যা ময়না আক্তার’ নামেই। সাহস, সংগ্রাম আর প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে বাঞ্ছারামপুরের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ময়না আক্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠতে পারেন।
মন্তব্য করুন