কুষ্টিয়ার মিরপুরে যৌতুকের দাবিতে সুলোতা দাস ওরফে পূজা দাস (১৯) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী দীপক দাস, শ্বশুর নীল কুমার দাস ও শাশুড়ি অনিতা রানী পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মিরপুর উপজেলার কাকলীদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুলোতা দাস ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের বাবুপাড়া এলাকার সনদ দাস ও সীমা দাসীর মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে কাকলীদহ এলাকার নীল কুমার দাসের ছেলে দীপক দাসের সঙ্গে সুলোতার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণালংকার এবং জামাইকে স্বর্ণের আংটি ও ঘড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আরও যৌতুকের দাবিতে সুলোতার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার দুপুরে যৌতুকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সুলোতাকে তাঁর স্বামী দীপক দাস, শ্বশুর নীল কুমার দাস ও শাশুড়ি অনিতা রানী মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলোতাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, এরপর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহ হাসপাতালে রেখেই সেখান থেকে চলে যান।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতেই সুলোতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরসহ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন