নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত: সমালোচনা নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব জেতী প্রু। জনস্বার্থে জারি করা আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গত ১ নভেম্বর ঢাকার ছয়টি রুটে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় পরীক্ষামূলক বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সচিব মসিউর রহমানের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরপরই তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত আসে।
​সরকার প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে যেকোনো কর্মকর্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষের মধ্যে এমন অতি উৎসাহ, উল্লাস ও ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রকাশ কেন? আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কিন্তু কাউকে হেয় করা কিংবা সুযোগ বুঝে অপপ্রচার চালানো কি দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ?
​১৫ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস ও একজন কর্মকর্তার কর্মজীবন
মসিউর রহমানের পরিচিতজন ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর তাঁকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখা হয়েছিল। ফলে তাঁর কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে।
​স্থানীয়দের অনেকের মতে, তিনি শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তা নন, এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সহযোগিতার কথাও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। অথচ দুঃখজনকভাবে, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ এমনভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, যেন একজন কর্মকর্তার দীর্ঘ কর্মজীবন, অতীত অবদান ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের আর কোনো মূল্যই নেই। কোনো ভুল বা বিতর্কিত বক্তব্যের সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানো, বিদ্বেষ ছড়ানো কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
​আইন সবার জন্য সমান, কিন্তু অতি উৎসাহের কারণ কী?
একজন সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যে ভুল বা বিতর্কিত কিছু থাকলে সরকার প্রচলিত আইন, চাকরিবিধি ও প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে কেউ নন। মসিউর রহমানও এর ব্যতিক্রম নন।
​কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর কিছু মানুষের অতিরিক্ত উল্লাস, নেতিবাচক প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। যাঁরা সত্যিকার অর্থে আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন, তাঁদের উচিত সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং প্রয়োজন হলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সমালোচনা করা। কারও পদায়ন বা দায়িত্ব পরিবর্তনকে ব্যক্তিগত বিজয় কিংবা প্রতিশোধের উপলক্ষ বানানো উচিত নয়। বিশেষ করে যাঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থ, পূর্ববিরোধ কিংবা কোনো ধরনের অসন্তোষ রয়েছে, তাঁদের কেউ যেন এ ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণায় লিপ্ত না হন। সমালোচনা ও অপপ্রচার এক বিষয় নয়—এই পার্থক্য বোঝা জরুরি।
​অতি উৎসাহ নয়, প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতা
ভুল মানুষেরই হয়। ভুল হলে তার যথাযথ মূল্যায়ন, জবাবদিহি ও সংশোধনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। একইভাবে একজন মানুষের দীর্ঘ কর্মজীবনকে শুধু একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিত্তিতে বিচার করাও ন্যায়সংগত নয়।
​মনে রাখতে হবে, আজ যিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁর বিষয়েও আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলবে। সেখানে কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, প্রতিহিংসা কিংবা অতি উৎসাহের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। সর্বোপরি, সরকার আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু অসৎ ও স্বার্থান্বেষী মানুষের অযাচিত উল্লাস, বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং অপপ্রচারের প্রবণতা অবশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়া উচিত।
​আইন চলবে আইনের নিজস্ব গতিতে, প্রশাসন চলবে বিধিবিধান অনুযায়ী। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রোশ, প্রতিহিংসা ও অসৎ উদ্দেশ্য যেন কখনো ন্যায়বিচারের জায়গা দখল করতে না পারে। কারণ, একটি সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন হতে পারে, একজন মানুষের ভুলের জবাবদিহিও হতে পারে—কিন্তু কাউকে হেয় করার অধিকার কারও নেই।

Facebook Comments Box
আরো পড়ুন...  সড়ক নির্মাণ কাজে দুর্নীতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধা ও তদন্তের আশ্বাস

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত: সমালোচনা নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ

১

মোরেলগঞ্জে কৃষক দল নেতা জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ

২

মোরেলগঞ্জে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং

৩

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

৪

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে নবীন-প্রবীণের আবেদন

৫

দক্ষ যুবসমাজ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: মোরেলগঞ্জে ইউএনও হাবিবুল্লাহ

৬

গ্লোবাল এমআইএল উইকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় স্থান অর্জন

৭

মোরেলগঞ্জে আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

৮

মোরেলগঞ্জে ‘আইডিয়াল জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন ৩০ অক্টোবর

৯

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: মোরেলগঞ্জে ডরপের উদ্যোগে নিরাপদ পানি প্রকল্পের উদ্বোধন

১০

মোরেলগঞ্জে পালিত হয়েছে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস

১১

যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মোরেলগঞ্জে বর্নাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

১২

শনাক্ত হয়নি পশুর নদে কয়লাবোঝাই ডুবো জাহাজের অবস্থান

১৩

মোংলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

১৪

মোরেলগঞ্জে পাঁচগাঁও বাজারে অগ্নিকাণ্ড: নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা

১৫

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে হরিণের মাংস উদ্ধার

১৬

মোংলা বন্দর পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৭

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাকোপে, পরিদর্শন করবেন মোংলা বন্দর

১৮

পূজার নিরাপত্তায় উপকূলে তৎপর কোস্ট গার্ড

১৯

মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপির বর্ণাঢ্য মিছিল

২০