
পটুয়াখালীর মহিপুরে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে থাকা জেলেদের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থায় ন্যায্যমূল্যে তেল সরবরাহ শুরু করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে ট্রলার মালিক ও মাঝিদের মাঝে ২৭ হাজার লিটার ডিজেল বিতরণ করা হয়।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতায় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কলাপাড়ার বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশন ও কুয়াকাটার ফরাজী ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে মহিপুর সদর ইউনিয়নে ১৫ হাজার লিটার এবং লতাচাপলী ইউনিয়নে ১২ হাজার লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। প্রতি লিটার তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০১.৭৪ টাকা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহিপুরে ছোট-বড় ট্রলার ভেদে সর্বনিম্ন ৪০০ লিটার থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ লিটার পর্যন্ত তেল দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০ জন ট্রলার মালিকের মাঝে ১৫ হাজার লিটার তেল বিতরণ করা হয় এবং আলীপুরেও একই পদ্ধতিতে বাকি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
এসময় মহিপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. ফজলু গাজী, মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রাজু আহম্মেদ রাজা ও সাধারণ সম্পাদক সুমন দাসসহ মৎস্যজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি সংকটের কারণে গত ৪-৫ দিন ধরে শতাধিক ট্রলার সাগরে যেতে না পেরে ঘাটে অলস বসে ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে জেলেরা সাধুবাদ জানালেও বড় ট্রলারের মালিকরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের দাবি, একটি বড় ট্রলার গভীর সাগরে ৫-৭ দিনের জন্য মাছ শিকারে গেলে কমপক্ষে ২৫০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বরাদ্দকৃত ১০০০ লিটার তেল নিয়ে সাগরে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সাগরে মৎস্য আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা (অবরোধ) শুরু হবে। মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকদের দাবি, অবরোধের আগের এই কয়েকদিন যেন নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এতে জেলেরা তাদের পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও অব্যাহত থাকবে।
ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী জানান, আগামীকালও একইভাবে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চলবে।
মন্তব্য করুন