কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৫ সূত্র জানায়, ২২ এপ্রিল রাতে টেকনাফ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এতে হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকা থেকে মাদক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আইয়ুব (৫৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরঘাট থানার একটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
একই রাতে পৌরসভার ওপরের বাজার এলাকায় আরেকটি অভিযানে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ ইদ্রিস (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি টেকনাফের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করে।
অন্যদিকে, উখিয়ার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বিজিবি। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) জানায়, ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় হ্নীলা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। এ সময় চালক পালানোর চেষ্টা করলে ব্লকার ব্যবহার করে গাড়িটি থামানো হয়।
পরে সিএনজি চালক মোহাম্মদ হামিদ (৩৯)-কে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার সিটের ভেতর থেকে একটি ৯ মি.মি. পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি জানান, তিনি এক রোহিঙ্গা ডাকাতের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে পালংখালী এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তা বহন করছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, মাদক, চোরাচালান ও অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ দমনে সক্রিয় তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।
মন্তব্য করুন