রংপুরের বদরগঞ্জে স্ত্রী ও সন্তানদের নামে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি লিখে দেওয়ার পর অসহায় জীবনযাপন করছেন খাজা ময়নুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। স্ত্রী ও সন্তানরা দেখভাল করবেন—এমন আশ্বাসে নিজের শেষ সম্বল ২৫ শতক জমির মধ্যে স্ত্রী ফেন্সি বেগমকে ৭ শতক এবং মেয়ে মৌসুমী খাতুনকে ১৮ শতক জমি লিখে দেওয়ার পর তিনি এখন পরিবারের কাছেই অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের রাজকৃষ্ণপুর ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খাজা ময়নুদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে তার কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে সংসারে যত্নে রাখবেন, কোনো কষ্ট দেবেন না এবং খাওয়া-দাওয়া, ওষুধপত্র ও থাকার ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২৫ শতক জমি স্ত্রী ও মেয়ের নামে লিখে দেন।
কিন্তু জমি লিখে দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে অভিযোগ করেন খাজা ময়নুদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি অনেকটা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বরং তার সন্তান ফরহাদ, স্ত্রী ফেন্সি বেগম ও মেয়ে মৌসুমী খাতুন পরস্পর যোগসাজশ করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তার।
বৃদ্ধ খাজা ময়নুদ্দিন বলেন, জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি কোথায় গিয়ে থাকবেন, সেটিই এখন তার বড় চিন্তা। নিজের জমি-জমা স্ত্রী ও সন্তানদের লিখে দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকেই এমন আচরণ তাকে আরও অসহায় করে তুলেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে তার মেয়ে মৌসুমী খাতুনের নামে লিখে দেওয়া জমিতে থাকা দুই শতাধিক কলাগাছ তার আরেক সন্তান ফরহাদ কেটে ফেলেছেন। এসব কলাগাছ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে টাকা জমিয়ে রোপণ করেছিলেন বলে জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের জমি লিখে দেওয়ার পর থেকেই খাজা ময়নুদ্দিন অনেকটা অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন। তার মতো একজন বৃদ্ধ মানুষের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে খাজা ময়নুদ্দিনের স্ত্রী ফেন্সি বেগম, মেয়ে মৌসুমী খাতুন ও ছেলে ফরহাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন