মাগুরার শ্রীপুরে নিজ ঘরে মো. রাব্বি মন্ডল (৩২) নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফারজানা আক্তারের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফারজানাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাব্বি মন্ডল পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের নজরুল মণ্ডলের ছেলে। তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাব্বি ও ফারজানার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার ভোরে রাব্বি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তার গলায় ধারালো দা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ফারজানার বাবা ফয়জার ফোন করে জানান, রাব্বি ও ফারজানার মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছে। খবর পেয়ে রাব্বির বাবা নজরুল মন্ডল দ্রুত ছেলের বাড়িতে গিয়ে বিছানার ওপর তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
পরে ফারজানা আক্তার আমতৈল গ্রামে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে শ্রীপুর থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের বাবা নজরুল মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দিন দশেক আগে শ্বশুরবাড়ি আমতৈল গেলে সেখানকার লোকজন রাব্বিকে মারধর ও অপমান করেছিল। আজ সকালে গিয়ে দেখি আমার ছেলেটা খাটের ওপর রক্তাক্ত পড়ে আছে। আমরা এই নির্মম হত্যার কঠোর শাস্তি চাই।’
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আইনগত তদন্ত চলছে।
ভোররাতের এ ঘটনায় পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন