ঈদুল ফিতরের সময় পর্যটকে ভরপুর থাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এবার ঈদুল আজহায় যেন পুরোপুরি উল্টো চিত্রের মুখে পড়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ঈদের ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ফলে হোটেল ও রিসোর্ট বুকিংও নেমে এসেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
স্থানীয় রিসোর্ট ও হোটেল মালিকদের তথ্যমতে, সাধারণত ঈদের এক মাস আগেই অধিকাংশ কক্ষ বুক হয়ে যায়। কিন্তু এবার অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো বড় অংশের রুম খালি পড়ে আছে। পরিবারভিত্তিক ভ্রমণও কমে গেছে বলে জানান তারা।
শ্রীমঙ্গলের নিসর্গ নীরব ইকো কটেজের স্বত্বাধিকারী কাজী শামসুল হক বলেন, এবার এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। ঈদের সময়েও যদি পর্যটক না বাড়ে, তাহলে স্থানীয় পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
চামুং রেস্টুরেন্টের মালিক তাপস দাস জানান, ঈদ মৌসুমে সাধারণত বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এবার পর্যটক কম থাকলে ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগবে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, অতিবৃষ্টি, সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবও পর্যটন খাতে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা পর্যটক আগমনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে পর্যটক আগমন কমেছে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, সড়ক ও রেলপথের দুর্বলতা এবং বিদেশি পর্যটক না আসার কারণে খাতটি চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি সিলেট–ঢাকা রেলপথে আরও ট্রেন চালুর দাবি জানান।
এদিকে পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল চৌধুরী জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
মন্তব্য করুন