পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামে হৃদয়বিদারক এক মানবিক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুইটি অসহায় পরিবার।
গোলখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোসা. চাম্পা বেগম জানান, গত চৈত্র মাসের আকস্মিক ঝড়ে তার সরকারি আবাসন ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। এরপর থেকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তার।
তিনি বলেন, “বৃষ্টি এলে ভিজে যাই, রোদে পুড়ে যাই। সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বেঁচে আছি—তা শুধু আল্লাহই জানেন। রাতে ঘুমানোরও জায়গা নেই, সবসময় ভয় নিয়ে থাকতে হয়।
একইভাবে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন নলুয়াভাগি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমেনা বেগম (৫৫)। সাম্প্রতিক বন্যায় তার বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। বর্তমানে তিনিও খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছেন।
আমেনা বেগম বলেন, “আমি খুব গরিব মানুষ। একটা ঘর আর কিছু টিন পেলে অন্তত বাঁচতে পারতাম। এখন বৃষ্টি-রোদ সব সহ্য করতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এই দুই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। দুর্যোগের পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ এগিয়ে আসেনি।
এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়নের প্যানেল-১ চেয়ারম্যান আকন মো. আবু সাইদ বলেন, “তাদের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা লিখিত আবেদন করলে সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই দুই পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। একটি ছোট্ট ঘরের আশায় প্রতিদিন অপেক্ষায় রয়েছেন চাম্পা ও আমেনা।
মন্তব্য করুন