
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষমুখী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডে ঘটনাটি ঘটার পরপরই স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে আসে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানায়।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ডেকোরেশনের এক কর্মচারীকে আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের গাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং আসামিকে পুলিশের হাতে না দিয়ে সরাসরি তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে এলাকায় ধোঁয়া ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এলাকাবাসী জানায়, রাত ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ঘটনার সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মধ্যে দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন, “আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই, পুলিশের হাতে দেব না। বিচার দ্রুত না হলে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাব।”
বাদশা নামের এক যুবক বলেন, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। মানুষ রাস্তায় নেমেছে কারণ তারা ন্যায়বিচার দেখতে চায়।
খাদিজা বেগম বলেন, “ছোট বাচ্চার সঙ্গে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা চাই।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “ধর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ জড়িত আসামিকে আটক করে। শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে থানায় আনার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন পথ আটকে দেন। আইন অনুযায়ী আসামির বিচার হবে বলে আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।”
মন্তব্য করুন