মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের আমজাদ হোসেন আবারও আলোচনায় এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম জার্মানির পতাকা তৈরি ও প্রদর্শনের মাধ্যমে। তিনি এবার প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা প্রদর্শন করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
মঙ্গলবার মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে বিশাল পরিসরে এই পতাকা প্রদর্শন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা জার্মান ফুটবল দলের ভক্তরা অংশ নেন এবং অনেকে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন উপভোগ করেন।
আমজাদ হোসেন এর আগেও একাধিকবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্মানির পতাকা তৈরি করে আলোচনায় আসেন। ২০০৬ সালে তিনি প্রথম দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন। এবার সেই ধারাবাহিকতা ছাড়িয়ে পতাকার দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত কিলোমিটারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় পরিবারের বিরোধিতা থাকলেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ভালোবাসার কারণে তিনি থেমে যাননি। এমনকি পতাকা তৈরির জন্য নিজের প্রায় ৩০ শতক জমি বিক্রি করার কথাও জানা গেছে।
আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৫ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে জার্মানির তৈরি একটি হোমিও ওষুধ সেবনের পর সুস্থ হন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি জার্মানির প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেন। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রথম পতাকা তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে তার আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, এ বছর তৈরি করা পতাকাটি তিনি জার্মান ফুটবল দলের জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য উপহার দিতে চান।
স্থানীয়দের মতে, আমজাদের এই উদ্যোগ শুধু ফুটবলপ্রেম নয়, বরং একটি দেশ ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসার অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন