পঞ্চগড়ে হাসপাতালে ভর্তি ফি নিয়ে বিরোধ ও এক ওয়ার্ড বয়কে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় জুয়েল খন্দকার নামে এক ছাত্রদল নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৭ মে) মধ্যরাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। জুয়েল খন্দকার তার দাদী আনোয়ারা বেগমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভর্তি ফি বাবদ ১০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড বয় রশিদুল ইসলামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে জুয়েল খন্দকার ওয়ার্ড বয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী ওয়ার্ড বয় রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি ফি ১০ টাকা চাইলে রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে ভাঙতি টাকা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত জুয়েল খন্দকার অবশ্য দাবি করেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। পরে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন বলেও তিনি জানান।
দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সুমন বলেন, “ঘটনার পর রাতেই উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পরে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জুয়েলের পদ স্থগিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক জানান, ওই রাতে রোগী আনোয়ারা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে অন্যান্য রোগীও চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে তিনি জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত থাকলেও ঈদের ছুটির কারণে তা এখনো পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন