কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিভা মডেল একাডেমিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ফল উৎসব ও মা সমাবেশ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে মায়েদের ভূমিকা তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ফিরোজ মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার। প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের কো-চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান খসরু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান নান্নু এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ডা. আমিরুল ইসলাম মান্নান।
সমবেত মায়েদের পক্ষে বক্তব্য দেন রাত্রি খাতুন ও চাঁদনী খাতুন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়াহিদা মিতা এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন মারুফ।
ফল উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টলে দেশীয় ও মৌসুমি ফলের আকর্ষণীয় প্রদর্শনীর আয়োজন করে। আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, পেয়ারা, আনারস, লটকন ও জামরুলসহ নানা ধরনের ফল প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীদের দেশীয় ফল খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করতে এবং ফাস্টফুড ও কৃত্রিম খাবারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পরিবারের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সচেতন মা-ই একটি শিক্ষিত, আদর্শ ও মানবিক সন্তান গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন।
ফল উৎসবের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত মা সমাবেশে সন্তানের শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, নৈতিক শিক্ষা এবং পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় মায়েরা সন্তানদের শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বক্তারা আরও বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাবেশের শেষাংশে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে মা ও শিক্ষকদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় ফল বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্য করুন