মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দকৃত ২৪ বস্তা জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার বিকেলে উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থিত সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানা-পুলিশ জানতে পারে যে অবৈধভাবে আমদানি করা ভারতীয় জিরা কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে কুরিয়ার অফিসে থাকা ২৪ বস্তা জিরা জব্দ করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উপজেলার খান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এসব জিরা কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকার বাবুবাজার এলাকার আনিছ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পণ্যের বৈধ আমদানি সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র বা শুল্ক পরিশোধের নথি দেখাতে পারেননি।
পুলিশের ধারণা, সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব জিরা দেশে আনা হয়েছে। পরে সেগুলো বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছিল। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান বলেন, “জব্দ করা জিরাগুলো ভারতীয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্য আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তারা এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন