ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজার ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় উচ্চ শব্দে ডিজে, লাউডস্পিকার এবং হাই-ভলিউম সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটকদের স্বস্তিদায়ক পরিবেশ রক্ষায় বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজের নেতৃত্বে পরিচালিত এ পরিদর্শনে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঝালকাঠির সহকারী পরিচালক এবং কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে বেড়াতে আসা কিছু পর্যটক নৌকা ও ট্রলারে উচ্চস্বরে গান বাজানো, ডিজে সিস্টেম ব্যবহার এবং লাউডস্পিকার পরিচালনা করায় স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক ভ্রমণও ব্যাহত হচ্ছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
পরিদর্শনকালে ইউএনও সেগুফতা মেহনাজ পর্যটক, নৌযানচালক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, ভিমরুলী শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি ঝালকাঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ। এর পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
এ সময় নৌকা ও ট্রলারে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম, ডিজে কিংবা লাউডস্পিকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন পর্যটকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভিমরুলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা শান্ত ও মনোরম পরিবেশে ভাসমান পেয়ারা বাজারের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর অবস্থানের ফলে ভিমরুলীর বিশ্বখ্যাত ভাসমান পেয়ারা বাজারের স্বকীয়তা ও পরিবেশ দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ণ থাকবে।
মন্তব্য করুন