পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় পরিত্যক্ত ঘরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. ইকরামুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইকরামুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত আবদুল মালেক আকনের ছেলে। তিনি বর্তমানে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া এলাকার জাকির হাওলাদারের ছেলে সাব্বির হাওলাদার (১৯), জিহাদ হাওলাদার (৩০), শাকিল হাওলাদার (৩৫), জাকির হাওলাদার (৬৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে সাব্বির ও জিহাদ মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ইকরামুল। তারা প্রায়ই তার বাড়ির পাশে আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি একটি পরিত্যক্ত ঘরে মাদক সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে ইকরামুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনের বেড়িবাঁধে ইকরামুলকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালান। এ সময় সাব্বির হাওলাদার দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে সেটি নাকে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে জিহাদ হাওলাদার দা দিয়ে কোপ দিলে তা ঠেকাতে গিয়ে ইকরামুলের বাম হাতের কনুই কেটে যায়।
এ ছাড়া শাকিল হাওলাদার লোহার রড দিয়ে তাকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইকরামুল গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকার সুযোগে অভিযুক্তদের কয়েকজন তার ঘরে ঢুকে ড্রয়ারে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮ আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানবালা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তার স্ত্রী বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ইকরামুল।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত ইকরামুলকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন