বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমির সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে প্রভাবশালীদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী গ্রামের সিটকাপড় ব্যবসায়ী আবু মুছা তার মায়ের কবলাকৃত ১৬ শতক জমিতে প্রায় আট বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ জুন দুপুরে একই গ্রামের ছালেহ আহম্মদ গাজীর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ব্যবসায়ী আবু মুছার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বসতবাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়।
হামলায় আবু মুছার স্ত্রী সালমা বেগম (৩২), তার ভাই আলম খলিফা (৪০) এবং ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম খলিফা (২৫) গুরুতর আহত হন। তাদের প্রথমে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দুজনকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে গত ৪ জুন মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী আবু মুছা অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীরা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে তার জমির একটি অংশ দখল করে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জমি পরিমাপ করা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। হামলার ঘটনায় মামলা করার পরও তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা বাড়িতে নিরাপদে থাকতে পারছি না। প্রভাবশালীদের ভয়ে রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছালেহ আহম্মদ গাজী। তিনি দাবি করেন, হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং প্রতিপক্ষ বহিরাগত লোকজন এনে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পক্ষের চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় আবু মুছা বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-১০, তারিখ ৪ জুন ২০২৬। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন