আফজাল মিয়া, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
৭ মে ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

রাজমিনা মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল বিশ্বনাথ

সিলেটের বিশ্বনাথে রাজমিনা বেগম (২২) নামের এক যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু এবং এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুবতীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখিয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের, পিতার স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এবং থানার এক এসআইয়ের কটুক্তির প্রতিবাদে বুধবার (৬ মে) বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরের বাসিয়া সেতুর ওপর মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শ্রীধরপুর ও কাউপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রাজমিনা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্বনাথ থানার এসআই জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজমিনার চাচা আব্দুল আলী অভিযোগ করেন, কাউপুর গ্রামের ওয়ারিছ আলীর ছেলে রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে রাজমিনাকে মানসিকভাবে হয়রানি করছিলেন এবং বিষয়টি স্থানীয় মুরব্বীরাও জানতেন। তিনি দাবি করেন, রাজমিনার মৃত্যুর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পিতাকে থানায় নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে আত্মহত্যার অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজমিনার পিতা কৃষক রশিদ আলী বলেন, মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর তিনি থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে এসআই জহিরুল ইসলাম তাকে বলেন, “মেয়ে তো মরে গেছে, শেষ। আর কী? এটা নিয়ে এত টানাটানি করছেন কেন?” তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ময়নাতদন্তের কথা বলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পরে তা অন্য নথিতে ব্যবহার করেছে। তার দাবি, রুহুল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে রাজমিনাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।

আরো পড়ুন...  কালিহাতীতে সরিষা ক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরমান খান বলেন, “যদি অভিযুক্তরা নির্দোষ হয়, তাহলে ঘটনার পরপরই তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেল কেন?” তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসী একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পুলিশের আচরণে জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্বনাথ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নই। রাজমিনার বাবার সঙ্গে আমার দেখাও হয়নি। গ্রামের এক যুবক আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি শুধু বলেছিলাম অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “ময়নাতদন্তের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে অপমৃত্যু মামলা করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি নিজেই বিষয়টি তদন্ত করছি।”

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল উপজেলার কাউপুর গ্রামের একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে করচ গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় রাজমিনা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২১ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ঘটনার পর পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জমি বিরোধে ফিশারি-ফার্ম ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

তেলকুপি সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, ৭টি ভারতীয় মোবাইল জব্দ

কিশোরগঞ্জ যুবদল নেতৃত্বে মাসুদ সুমনকে ঘিরে আলোচনা

স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে বাড়ির সামনে স্ত্রীর অবস্থান

অপপ্রচারের প্রতিবাদে জেলা বিএনপি

জগন্নাথপুরে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার

মৌলভীবাজারে টিলা-পাহাড় ধ্বংসের মহোৎসব

চিকিৎসকহীন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাবুর্চির চিকিৎসা

জগন্নাথপুর-পাগলা সড়কে ডাকাতি

রাজশাহীতে মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

১০

রাজমিনা মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল বিশ্বনাথ

১১

খরনা ইউপিতে আলোচনায় করিম মেম্বার

১২

সয়াবিন তেলের বোতলে মাছি!

১৩

পুলিশের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে নারীর সংবাদ সম্মেলন

১৪

রেলওয়ের জমি উচ্ছেদ অভিযান

১৫

চরাঞ্চলে নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালু

১৬

বাগেরহাটে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত

১৭

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: যুবক আটক

১৮

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ

১৯

রহনপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা

২০