সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় জগন্নাথপুর–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে ছাতক থানা পুলিশ। দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত অর্থসহ দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার, ছাতক সার্কেলের তত্ত্বাবধানে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কবির, এসআই শেখ মোঃ মিরাজ আহম্মেদ, এএসআই রৌশন, এএসআই সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একাধিক টিম অংশ নেয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ৬ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে। ছাতক থানাধীন ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও এলাকার দারাখাই কুন্দানালা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে অজ্ঞাত ৮–১০ জনের একটি ডাকাত দল সিলেট মেট্রো-ন-১১-১১৬০ নম্বরের একটি পিকআপ ভ্যানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ডাকাতরা গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে চালক ও যাত্রীদের মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে নগদ ২ লাখ ৬ হাজার টাকা লুট করে নেয়। লুট হওয়া টাকা “হাবিব ভেরাইটিজ স্টোর”-এর বিভিন্ন শাখার বিক্রির অর্থ ছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা কর্মচারী স্বপন দাস, চালক স্বদেব দাস ও প্রান্ত দাস গুরুতর আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই দোকান মালিক মোঃ মতিউর রহমান ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৩, তারিখ ০৮/০৫/২০২৬, ধারা ৩৯৫/৩৯৭ দণ্ডবিধিতে রুজু করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৮ মে রাত ১টা ২০ মিনিটে ভাতগাঁও ইউনিয়নের ভমবমি বাজার এলাকা থেকে দুইজন ডাকাতকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ আজির উদ্দিন (৩৩), গ্রাম-মজিদপুর, থানা জগন্নাথপুর এবং মোঃ হোসাইন আহম্মদ (২২), গ্রাম-ইশাকপুর, থানা শান্তিগঞ্জ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত হোসাইন আহম্মদের বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে একটি রামদা ও লুণ্ঠিত নগদ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামি লায়েক মিয়ার বাড়ি থেকে একটি তলোয়ার, মুখোশযুক্ত কালো-লাল হুডি জ্যাকেটসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতির ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে এখনো পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন