লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অস্তিত্বহীন রাইস মিলের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ অনিয়মকে কেন্দ্র করে খাদ্য বিভাগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাটগ্রামে হাস্কিং ও অটো মিল মিলিয়ে মোট ৪৪টি রাইস মিল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ২৪টি। তবে স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ২৩টি মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অনেক মিলের কোনো উৎপাদন কার্যক্রম নেই, নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বয়লার কিংবা সাইনবোর্ডও। কিছু স্থানে মিলের জায়গা আগাছায় ঢেকে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অকার্যকর ও অস্তিত্বহীন মিলের নাম ব্যবহার করেই সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত মিল মালিক ও কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে পাটগ্রাম উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ জন্য ২৪ জন মিলারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ের বাস্তব যাচাইয়ের পরিবর্তে কাগজপত্রের ভিত্তিতে তালিকা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। এতে খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও মিল মালিক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাটগ্রাম উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. নাসিম আল আখতার বলেন, “অস্তিত্বহীন কোনো মিল বরাদ্দ তালিকায় নেই। যেসব মিল সম্পূর্ণ অকার্যকর, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পাটগ্রাম উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সভায় আলোচনা করা হবে।”
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মাঠপর্যায়ে মিলগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে জনমনে আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন