চট্টগ্রামের পটিয়ায় ঐতিহ্যবাহী আমজু মিয়ার ১১৭তম বলীখেলা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন মহেশখালীর শক্তিশালী বলী মাসুম বলী। শনিবার (৯ মে) বিকেলে পটিয়া পৌরসদরের বৈলতলী রোডস্থ আমজু মিয়া চৌধুরীর বাড়ি সংলগ্ন মাঠে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শক ও বলীদের উপস্থিতিতে মাঠটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শক্তিশালী বলীরা একে একে অংশ নেন প্রতিযোগিতায়। শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ এই বলীখেলা ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ফাইনালে মুখোমুখি হন মহেশখালীর মাসুম বলী এবং বোয়ালখালীর কাঞ্চন বলী। চূড়ান্ত লড়াইয়ে কৌশল, শক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে মাসুম বলী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেন। তার জয় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠে করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ।
বলীখেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম। এ সময় তিনি বলেন, বলীখেলা বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বলীখেলা ও লোকজ মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলম চৌধুরী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক, পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম সওদাগর, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পটিয়া পৌরসভার সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ধারাভাষ্য প্রদান করেন মো. ইকবাল, আলভি ও মফিজুর রহমান। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পুরো বলীখেলা আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
ঐতিহ্যবাহী এই বলীখেলাকে ঘিরে শুধু মাঠই নয়, আশপাশের এলাকাজুড়েও ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা উপলক্ষে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে স্থানীয় হস্তশিল্প, খাবার ও নানা পণ্যের স্টল দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজারো মানুষ দিনব্যাপী এই আয়োজন উপভোগ করেন।
আয়োজকরা জানান, শত বছরের পুরোনো এই বলীখেলা শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন