চট্টগ্রামে জাঁকজমকপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে “হিফজুল কুরআন ২০২৬” গ্র্যান্ড ফাইনাল প্রতিযোগিতা, সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সোমবার (১৮ মে) দিনব্যাপী চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন হাফেজ নগর তুলতলি এলাকার নেয়ামত নুর জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ ইরফান কাশেমী। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আল জামিয়া আরাবিয়া মোজাহেরুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা লোকমান হাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা শেখ আবদুল আজিজ, আজিজিয়া দারুল আরকাম তাহফিজুল কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা একিউ এম মোসলেহ উদ্দিন, প্রধান আলোচক মুফতি বেলাল উদ্দিন আজাদ, বায়তুল কুরআন হিফয মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ রফিক বিন হোসাইন, মোরশেদুল আলম, মোহাম্মদ আলমগীর, মাওলানা মতলুবুর রহমান, প্রবাসী জামাল হোসাইন ও হাফেজ মাওলানা শহিদুল্লাহসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সেলিম উদ্দীন চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাতসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন নাজিলের পাশাপাশি এর সংরক্ষণের দায়িত্বও নিজেই গ্রহণ করেছেন। যুগে যুগে অসংখ্য হাফেজে কুরআন নিজেদের হৃদয়ে এই মহাগ্রন্থ ধারণ করে ইসলামের অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে আসছেন। একজন হাফেজে কুরআন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য গৌরব ও সম্মানের প্রতীক বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে আগত ৩০ জন শিক্ষককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং ৫০ জনকে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ২০ জন প্রতিযোগীকে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয়। সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রায় দুই শতাধিক অতিথির মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন