পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি হিন্দু পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চৈতা রায় (৩০) নামে এক ইটভাটা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করেছেন উপজেলার জিতেন্দ্র নাথ (৪০) ও ভবেশ চন্দ্র রায় (৫০) নামের দুই সহোদর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চৈতা রায় চিফ জুডিশিয়াল আদালতে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই জিতেন্দ্র নাথ ও ভবেশ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৯/২৫।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি ও ডিবি পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পায়নি। তদন্তে চৈতা রায়কে ‘মামলাবাজ ও প্রতারক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
জিতেন্দ্র নাথ জানান, ইটভাটার মালিকানা থেকে তাদের বঞ্চিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, চৈতা রায় ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই ভাটার ৫০ শতাংশ মালিকানা মনোরঞ্জন রায় ও দক্ষিণা রঞ্জনের কাছে বিক্রি করে দেন। এরপরও একই অংশ আবারও অন্যদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় ভবেশ রায় বাদী হয়ে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৬০/২৫। পরে আদালত বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে পরবর্তীতে আদালত অবমাননার মামলাও দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে ইটভাটার মালিকানা সংক্রান্ত দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়। এতে ভবেশ রায় ও জিতেন্দ্র নাথ নিজেদের প্রকৃত মালিক দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইটভাটাটির আগের নাম ছিল ‘জেসিডি ব্রিকস’। পরে নাম পরিবর্তন করে ‘যমুনা ব্রিকস’ রাখা হয়।
এদিকে চৈতা রায়ের বিরুদ্ধে যশোর আদালতেও কয়লা ক্রয় সংক্রান্ত আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চৈতা রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন