রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের সাবেক বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা এনামুল হকের বিরুদ্ধে যমুনেশ্বরী নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে, আবাদি জমি বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার রাজরামপুর নাওপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যমুনেশ্বরী নদীর মাঝখানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালুর প্রায় অর্ধকোটি টাকার মজুত কৃষিজমির ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পরে এসব বালু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনাস্থলে অন্তত ১৫টি ট্রাক্টরে বালু লোড করতে দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার বালু বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও অজ্ঞাত কারণে কিছুক্ষণ পর চলে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, একই এলাকায় সব্বুর আলী, মোয়াজ্জেম ও লিমন নামে আরও কয়েকজন পৃথক পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার বালু বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন।
এদিকে বালু ও মাটি বহনকারী ভারী যানবাহন গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করায় রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ধুলাবালুর কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাক্টরচালক জানান, তারা প্রতি ট্রিপে ১০০ থেকে ২০০ টাকা মজুরি পান। বাকি অর্থ বালু ব্যবসায়ীদের কাছে যায়।
নাওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, “আমরা নিয়মিত প্রশাসনকে জানাই, কিন্তু তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না। এতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।”
কালজানি গ্রামের দুই গৃহবধূ বলেন, “দিন-রাত বালুবাহী গাড়ি চলাচল করে। রাতে বিকট শব্দে শিশুদের ঘুমাতে সমস্যা হয়। দিনের বেলায় ধুলাবালুতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান ও তহশিলদারকে জানিয়েও কোনো সুফল পাইনি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিনুর মিয়া বলেন, “ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
মধুপুর ইউনিয়নের তহশিলদার রতন চন্দ্র বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক বলেন, “এখানে সবাই বালু তুলছে, তাই আমিও তুলছি।”
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, “বালু উত্তোলন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কেউ ব্যক্তিগতভাবে দলের নাম ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ড করলে প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।”
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন বলেন, “নাওপাড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। আবারও সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
মন্তব্য করুন