নড়াইলের কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোস্তফা কামাল সরকারি বদলির আদেশ পাওয়ার পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বর্তমান কর্মস্থলেই অবস্থান করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প সভাপতি এবং ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৭ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোস্তফা কামালের বদলি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দেশনা জারির পরও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে কালিয়াতেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, বদলির পরও একই স্থানে অবস্থান করায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কালিয়া উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু নতুন শর্ত আরোপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্প সভাপতির ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিল পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা এবং বিল স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রতিনিধির দাবি, কিছু প্রকল্পে স্থানীয় শ্রমিকদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে কাজ করানো হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত শ্রমিক ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিভিন্ন বিল পরিশোধে বিলম্ব এবং নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, কিছু প্রকল্পে বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে এবং ভ্যাট ও আয়করের নামে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পিআইও মো. মোস্তফা কামাল বলেন, তিনি ইতোমধ্যে বদলি কার্যকর করতে রিলিজ চেয়ে আবেদন করেছেন এবং রিলিজ পেলে দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনা ঘুষ বা অনিয়মের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন এবং এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি আদেশ জারির পরও কেন তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় কালিয়া উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন