বরিশাল নগরীকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ (Practical Action)-এর সঙ্গে বিসিসির এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে ‘ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ বা সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নগরীর ক্রমবর্ধমান বর্জ্যকে কীভাবে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সম্পদে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
সভায় প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের প্রতিনিধি দল একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তুলে ধরেন, যেখানে বর্জ্যকে কেবল ফেলার বস্তু হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় বিশেষভাবে তিনটি দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
প্রথমত, উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথকীকরণ। অর্থাৎ বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক স্থান থেকেই পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার কার্যকর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দ্বিতীয়ত, রিসাইক্লিং ও জৈব সার উৎপাদন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জৈব বর্জ্য থেকে উন্নতমানের কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হবে, যা কৃষিখাতে ব্যবহার করা যাবে। একইসঙ্গে প্লাস্টিকসহ অপচনশীল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য বা জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তৃতীয়ত, পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এতে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও দূষণ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। তিনি বলেন, “বরিশালকে একটি আদর্শ ও টেকসই নগরীতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য। প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য আর সমস্যা হিসেবে থাকবে না, বরং এটি হবে সম্ভাবনার নতুন উৎস।” তিনি দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। এছাড়া ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক, বিসিসির স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বরিশাল শুধু একটি পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হবে না, বরং বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পরিবেশ দূষণ ও ড্রেনেজ সংকট নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নগরবাসীও এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন, যাতে একটি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে বরিশাল নতুন পরিচয়ে এগিয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন