মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলী আশরাফ মান্নাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বুধবার (২০ মে) কাতার থেকে দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন এলাকায় তাকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর আলী আশরাফ মান্না কাতার থেকে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময় তার পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি শনাক্ত হলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হেফাজতে নেয়।
তবে তাকে ঠিক কোন মামলায় বা কী অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার গ্রেপ্তারকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
আলী আশরাফ মান্না দীর্ঘদিন ধরে কনকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তার গ্রেপ্তারের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে তার ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা এখনও নিশ্চিত নন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলা ও অভিযোগে অভিযান জোরদার হওয়ায় এমন ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন মামলার আসামিদের শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়িয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, বিদেশফেরত যাত্রীদের পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা অন্য কোনো আইনগত জটিলতার তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আলী আশরাফ মান্নার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা যুবলীগ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারের পর তাকে কোন থানায় নেওয়া হয়েছে কিংবা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এখন এ ঘটনার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে।
মন্তব্য করুন