মাগুরার ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু হাজরাপুরী লিচুকে ঘিরে দুই দিনব্যাপী লিচু মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন লিচু বাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধনের পর অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং লিচু চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মেলায় হাজরাপুরী লিচুর বিভিন্ন জাত ও উৎপাদন পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। মাগুরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় জেলার বিভিন্ন এলাকার লিচু চাষি ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। মেলায় মোট ১৮টি স্টল স্থান পেয়েছে।
মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলি আহমদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আল মারুফ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. হযরত আলী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম, নারী উদ্যোক্তা জেনিস ফারজানা, লিচু চাষি জহুরুল ইসলাম পিয়াল ও মনিরুজ্জামানসহ অন্যান্য অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, হাজরাপুরী লিচু শুধু মাগুরার নয়, সারাদেশেই ব্যাপক পরিচিত ও জনপ্রিয়। এর স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে এটি ইতোমধ্যে জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে, যা মাগুরাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তারা বলেন, এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আধুনিক উদ্যোগ নিতে হবে।
লিচু চাষিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তবে লিচু দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্প্রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের দাবি জানান তারা।
সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “হাজরাপুরী লিচুর রয়েছে আলাদা সুনাম ও কদর। এটি জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। এই গৌরব ধরে রাখতে হলে লিচু চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণে ফলচাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই লিচু উৎপাদন ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, হাজরাপুরী লিচুর স্বাদ ও গন্ধ অন্য যেকোনো লিচুর চেয়ে আলাদা। এমন আয়োজন লিচুর প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।
মন্তব্য করুন