পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে খাগড়াছড়ি জোন। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের চিকনচাঁন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ঢেউটিন প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে লোগাং ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া থেকে আসা তিন শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে খাগড়াছড়ি জোনের মেডিকেল টিম বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি এলাকার অনেক মানুষ অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। খাগড়াছড়ি জোনের এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প তাদের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল ক্যাম্পের পাশাপাশি চিকনচাঁন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও ছাতা বিতরণ করা হয়। খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরে স্থানীয় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজে সহায়তা হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। স্থানীয়রা খাগড়াছড়ি জোনের এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। এ সময় তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। পাহাড়ের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি জোন নিয়মিতভাবে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
একই সঙ্গে তিনি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহিংসতার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। স্থানীয়দের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পাহাড়ি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করে তুলছে।
মন্তব্য করুন