যশোর সদর উপজেলার তোলানূরপুর গ্রামে এক ‘অচেনা বৌমা’কে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছেলেকে শাসন করাকে কেন্দ্র করে কথিত পুত্রবধূর করা মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা মুনছুর আলী, তাঁর ভাই ফজলু ওরফে কারেন্ট মিস্ত্রি ফজলু এবং প্রতিবেশী আনোয়ার ওরফে হোটেল আনোয়ারকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলায় উল্লিখিত ঘটনা আদৌ ঘটেনি এবং এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মামলার বাদী মসিয়ার রহমানের মেয়ে মাহমুদা আক্তার মিরা। তিনি যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী কতোয়ালি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঘটনার তারিখ দেখানো হয়েছে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর। মামলার ধারাগুলো হলো—৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৫০৬(২)/১০৯ দণ্ডবিধি। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা বাদী মিরা ও তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম মুন্নাকে রড দিয়ে মারধর করেন, এতে তারা রক্তাক্ত জখম হন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, আহত স্বামী-স্ত্রী শহরের আল হায়াত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেন এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলো এসব দাবির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুনছুর আলী বলেন, “আমি মিরা নামের কাউকে চিনি না। আমার বাড়িতে সে কখনো থাকেনি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে আল হায়াত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভর্তি নথিতে মিরা বা শহিদুল ইসলাম মুন্না নামে কোনো রোগী ভর্তি থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, মামলার সঙ্গে সংযুক্ত যে প্রেসক্রিপশন কপি দেওয়া হয়েছে, সেটি আল হায়াত হাসপাতালের নয়; বরং ইউনাইটেড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের প্যাডে লেখা এবং তাতেও শুধু শহিদুল ইসলাম নামটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এএইচএম মঞ্জুর উদ্দীনও জানিয়েছেন, উল্লিখিত তারিখে তিনি ওই দুই নামে কোনো রোগীকে চিকিৎসা দেননি।
গ্রামবাসীরা জানান, তারা শুনেছেন মুনছুরের ছেলে মুন্নার বিয়ে হয়েছে; তবে কথিত বৌমাকে কেউ কখনো গ্রামে দেখেনি। বর্তমানে মুন্নাও নিজ বাড়িতে বসবাস করেন না। স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, একটি জালিয়াত চক্র এই ঘটনার পেছনে সক্রিয় থাকতে পারে এবং মামলাটি হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গ্রামে আসার আগেই কথিত বাদী পরিবারটির বাড়িঘর দখলের চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় তোলানূরপুর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা মামলার হাত থেকে নির্দোষদের রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। আইনজীবী ও সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ঘটনার সময়-স্থান নিরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তদন্ত শেষে আদালতের সিদ্ধান্তই এ ঘটনায় চূড়ান্ত সত্য উন্মোচন করবে।
মন্তব্য করুন