চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়া সেতুর পশ্চিম পাশের হাইওয়ে ক্রসিং এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়া সেতুর পশ্চিম অংশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। আহতদের দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাত ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে কয়েকজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
নিহতরা হলেন—পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভুর্ষি ইউনিয়নের দুলা মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা মো. ইউসুফ কোম্পানি (৬২), আশিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়ির মৃত আবদুল মোমিনের ছেলে এমদাদুল ইসলাম রুবেল (২৭), পটিয়ার খানমোহনা এলাকার হারুনর রশিদ (৫১) এবং কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের সজিব হোসেন (২৬)।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঈগল পরিবহনের কিছু বাস বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। চালকদের অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ঈগল পরিবহনকে ‘ঘাতক পরিবহন’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে রুট পারমিট বাতিল বা পরিবহনটির কার্যক্রম বন্ধের দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন পোস্ট ও আলোচনায় সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।
মন্তব্য করুন