ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র এ এফ এম আজিজুল ইসলাম পিকুলকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের মধ্যে এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মার্চ ২০২৫ তারিখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পিকুলকে আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মো. নজরুল ইসলাম ফকিরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সব জায়গায় প্রতিবাদের সুর জোরালো হতে থাকে। স্থানীয়দের একটাই দাবি, “জনতার মেয়র পিকুলের অব্যাহতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, আজিজুল ইসলাম পিকুল দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গত ১৭ বছরের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৫৩টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। একাধিকবার কারাবরণ ও রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে সরে আসেননি।
তৃণমূলের কর্মীদের মতে, পিকুলের মতো একজন ত্যাগী নেতাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় মনোবল ভেঙে পড়বে। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া তারা দলের দুঃসময়ে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নান্দাইল বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য রক্ষায় পিকুলের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন স্থানীয় সমর্থকরা।
বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, এটি শুধু একটি ব্যক্তিকে ঘিরে দাবি নয়, বরং ন্যায্যতার প্রশ্ন। তারা সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তৃণমূলের বার্তা স্পষ্ট—নান্দাইলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও আন্দোলনকে গতিশীল রাখতে আজিজুল ইসলাম পিকুলের মতো পরীক্ষিত নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
মন্তব্য করুন