মৌলভীবাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রিপন বকসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার নজিরাবাদ ইউনিয়নের কমলাকলস গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারকৃত রিপন বকস কমলাকলস গ্রামের মৃত্তিকা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. ফিরুজ বকসের ছেলে। পুলিশ সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী সাথী আক্তার বাদী হয়ে গত বছরের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এফআইআর নং-৩৪ এবং জিআর মামলা নং-৩৪/৩২৪। ওই মামলায় রিপন বকসকে ২১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, রিপন বকস ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছিলেন। সম্প্রতি হাইল হাওর সংলগ্ন এলাকায় মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উক্ত জমির মালিকানা নিয়ে মৌলভীবাজার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের পক্ষেই রায় ও ডিক্রি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার সদর আদালতও ওই ভূমির ওপর প্রথমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং পরে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভূমি দখলের চেষ্টা, হামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের অভিযোগে রিপন বকস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা বা ভূমি দখল নয়, রিপন বকসের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে বলেও নথিপত্রে উঠে এসেছে। ২০২২ সালে দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার (জিআর-২৯/২২) প্রধান আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে।
মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, বহুল আলোচিত এই গ্রেপ্তারের পর এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন