বাগেরহাটে টানা চার দিনের বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিস্তীর্ণ বোরো ধানের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। সোনালি ফসল ঘরে তোলার সময়ই প্রকৃতির বিরূপ আচরণে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন জেলার কৃষকেরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই আগাম বৃষ্টির আশঙ্কায় ধান কাটা শুরু করলেও কাটা ধান মাঠ থেকেই পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও ধান এখনো জমিতেই রয়ে গেছে, আবার কোথাও কাটা ধান পানির নিচে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। এতে কৃষকেরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
সরেজমিনে বাগেরহাট সদর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের যুগীদা ও পাখিমারা বিল এলাকায় দেখা গেছে, শত শত বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে আছে। অনেক কৃষক সেচপাম্প বসিয়ে পানি অপসারণের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় মোট ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, বাকি প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমির ধান এখনো মাঠে রয়েছে। ফলে নতুন করে বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুগন্ধি গ্রামের কৃষক হাওলাদার আব্দুল হালিম বলেন, “হঠাৎ বৃষ্টিতে কাটা ধান পানিতে ডুবে গেছে। পানি না নামলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে, চারা গজানোরও আশঙ্কা আছে।”
অন্য কৃষক মুকুল জানান, “শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ধান কাটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।”
কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জমির ধান হেলে পড়েছে এবং কিছু ধান মাঠে পানির নিচে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন