মৌসুমের শুরুতেই লিচু-র দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে রাজশাহীর বাজারে। তীব্র খরা, অতিরিক্ত তাপদাহ ও কম উৎপাদনের কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় জনপ্রিয় এই মৌসুমি ফল এখন অনেকটাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি পিস লিচু ৫ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি ১০০ লিচুর দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় উঠেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আকার ও মানভেদে দামের কিছুটা তারতম্য থাকলেও সার্বিকভাবে বাজার অস্থির।
দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। দিনমজুর রহিম মিয়া বলেন, “একশ লিচুর দাম ৫০০ টাকা—এটা কিনলে সংসারের অন্য খরচ চালানো কঠিন হয়ে যায়।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেক ক্রেতা।
বিক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাব ও তীব্র গরমে অনেক লিচু নষ্ট হয়ে গেছে কিংবা পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফেটে পড়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে যেখানে দিনে প্রায় ৫ হাজার লিচু বিক্রি করতাম, এখন ২ হাজার বিক্রি করতেই কষ্ট হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফল উৎপাদনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, লিচু এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। বাজারে সরবরাহ বাড়তে আরও ১৫–২০ দিন সময় লাগবে। তখন দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনের দিনগুলোতে লিচুর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে খরা ও তাপদাহ অব্যাহত থাকলে উচ্চমূল্য আরও কিছুদিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন