কিশোরগঞ্জের ইসলামপাড়া গ্রামের একসময়কার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আজমীর আলম এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। কয়েক বছর আগেও যিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন, বর্তমানে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, নিজেকে ‘কবিরাজ’ পরিচয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজমীর আলম (৩৫) কিশোরগঞ্জের ইসলামপাড়া গ্রামের রিকশাচালক খসরু আলমের ছেলে। মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছরের ব্যবধানে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। তদন্তে তার স্ত্রী তানিয়া আক্তারের নামে থাকা একটি ব্যাংক হিসাবেই অন্তত ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, আজমীর আলম নিজেকে একজন অভিজ্ঞ কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে পরে সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার জাল বিস্তার করতেন। তার নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র গড়ে ওঠে, যেখানে সদস্যদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব বণ্টন করে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি মোবাইল ফোনের মিনিট ও ইন্টারনেট প্যাকেজে বিশেষ অফারের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত। এছাড়া কবিরাজি চিকিৎসার নামে ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার, লটারিতে পুরস্কার জেতার মিথ্যা আশ্বাস এবং বিভিন্ন অনলাইন অফারের কথা বলে প্রতারণা চালানো হতো। প্রতারক চক্রটি ফেসবুকে অসংখ্য ভুয়া আইডি ও পেজ খুলে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করতো এবং পরে বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতো।
পুলিশের দাবি, প্রতারণার পাশাপাশি চক্রটির কিছু সদস্য মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। এমনকি অর্থ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকার তরুণদের চক্রে যুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ)। দীর্ঘদিন নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের পর আজমীর আলমসহ চক্রটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, চক্রটির আর্থিক লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রম এবং প্রতারণার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ধরনের প্রতারণা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত লোভনীয় অফার বা অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভনে অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন