জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং উপকূলীয় অঞ্চলকে সবুজ ও সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন সুন্দরবন যুব সংঘ। “মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬” শিরোনামের এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকা দাকোপ উপজেলার পশ্চিম ঢাংমারীতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুবসমাজ, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। কর্মসূচির প্রথম দিনেই বিভিন্ন প্রজাতির পরিবেশবান্ধব ম্যানগ্রোভ ও উপকূল উপযোগী গাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী এক মাসজুড়ে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আয়োজক সংগঠনের নেতারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ একটি কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ গাছ উপকূলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকাংশে সুরক্ষা দেয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার বলেন, “একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রতীক। উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে আমাদের এই উদ্যোগ চলমান থাকবে। তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।”
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারাও এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে এমন পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জুয়েল রানা, সাকিবুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, সাগর, সঞ্জয়, ইলিয়াসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সবুজায়নের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন