স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নড়াইল সদর উপজেলার কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বাদশার গ্যারেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যশোর জেলার কোতোয়ালি উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের ইসমাইল মোল্যার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫) এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবার হোসেন (২৮)। আকবার হোসেনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর ৪টার দিকে ইসমাইল মোল্যা (৬০) মারা যান। পরে সকাল ৬টার দিকে তার মরদেহ নিয়ে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সযোগে যশোরের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথে নড়াইল সদর উপজেলার বাদশার গ্যারেজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই জাহানারা বেগম নিহত হন। এ সময় নিহত ইসমাইল মোল্যার ছেলে, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের মোল্যাসহ আরও কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নড়াইলের শেখ সেকেন্দার আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে।
মন্তব্য করুন