
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলার ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১১ জন প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পথ সুগম হলো।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এ প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সব প্রার্থী কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। পুরো কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
প্রতীক বরাদ্দ অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা পেয়েছেন লাঙ্গল প্রতীক। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে উশোপ্রু মারমা পেয়েছেন রকেট প্রতীক।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোঃ কাউছার পেয়েছেন হাতপাখা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে মোঃ নূর ইসলাম পেয়েছেন আপেল, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে মোঃ মোস্তফা পেয়েছেন হারিকেন এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজা পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে জিরুনা ত্রিপুরা পেয়েছেন কলস, ধর্মজ্যোতি চাকমা পেয়েছেন ঘোড়া এবং সমীরণ দেওয়ান পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে বিএনপির প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবে।”
অন্য প্রার্থীরাও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এই আসনে ইসলামী দল, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপিসহ মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে এনসিপি প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় ১৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সাতজনের মনোনয়ন বৈধ, সাতজনের মনোনয়ন বাতিল এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে আপিলে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা ফিরে পাওয়ায় মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দুজন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় শেষ পর্যন্ত ১১ জন প্রার্থী খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ নিয়ে খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন