ঢাকার সাভারে তালাবদ্ধ একটি ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনি (২১) নামে এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী রনি ইসলাম স্ত্রীকে হত্যা করে বাসার বাইরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার ছায়াবীথি মহল্লায় ডা. তৌহিদুল রহমানের মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসা থেকে রিয়া মনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সাভার পৌর এলাকার আব্দুর রবের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার রাতে রিয়া মনি ও তাঁর স্বামী রনি ইসলাম শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজেদের বাসায় ফেরেন। পরদিন সকালে রনি ইসলাম বাসার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যান। পরে তিনি মোবাইল ফোনে নিজের মাকে জানান, রিয়া মনি আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশকে জানানো হলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, রিয়া মনি আত্মহত্যা করেননি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রনি ইসলাম পলাতক রয়েছেন, যা সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।
এদিকে অভিযুক্ত রনি ইসলাম সম্প্রতি গঠিত সাভার পৌর ছাত্রদলের কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাভার পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হিমেল খান বলেন, “নবগঠিত কমিটিতে রনি ইসলাম সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। ঘটনার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেওয়ান রমজান আলী বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি বিছানার ওপর পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত রনি ইসলামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা রিয়া মনি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন