পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী স্কুল এন্ড কলেজের ৩৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারী এপ্রিল ২০২৬ মাসের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা এখনও না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়, চিকিৎসা খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে তাদেরকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা পেলেও মিরুখালী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে এখনও বেতন জমা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মিত বেতনই তাদের অধিকাংশ পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু দুই মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এপ্রিল মাসের বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ধার-দেনা করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না, আবার অনেকের সন্তানের শিক্ষাব্যয় ও চিকিৎসা খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের অভিযোগ, বেতন-ভাতা আটকে থাকার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে সমস্যার সমাধান নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় শিক্ষক-কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মিরুখালী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং দ্রুত তাদের ন্যায্য পাওনা বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মন্তব্য করুন