সরকারি আইনগত সহায়তা সেবার কার্যকারিতা বৃদ্ধি, রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সঙ্গে এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৪টায় কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ ইসমত আরা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি) এ সংলাপের আয়োজন করে। কুড়িগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এতে সহযোগিতা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ক্রিশ্চিয়ান এইড ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ‘এমপাওয়ারিং ভালনারেবল ওমেন ইন কুড়িগ্রাম (ইভিডব্লিউ)’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে মোসাম্মৎ ইসমত আরা বলেন, সরকারি আইনগত সহায়তা সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংলাপের তাৎপর্য তুলে ধরে এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়ে আরও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি “সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা” শীর্ষক আলোচনাপত্র উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী কার্তিক চন্দ্র সেন। তিনি সরকারি আইনগত সহায়তা তহবিল, সেবা গ্রহণের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের রেফারেল ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সংলাপে ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন পাঁচগাছী ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য আসমানি বেগম এবং হলোখানা ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য মোনালিসা আক্তার। তারা নারী নির্যাতন, পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেশাল মিডিয়েটর নবাবুর রহমান, এস এম রেজাউল বারী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৈহিদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ভগবতী রানী এবং কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ.জি. মাহমুদ। এছাড়াও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় সরকারি আইনগত সহায়তা সেবার পরিধি, ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির ভূমিকা, নারী ও শিশুদের জন্য আইনগত সহায়তা, রেফারেল ও ফলো-আপ ব্যবস্থা এবং জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সমন্বয় জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা সেবার পরিধি সম্প্রসারণে বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক সুপারিশও প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, এএফএডি দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আইনগত সহায়তা, সচেতনতা বৃদ্ধি, মধ্যস্থতা এবং রেফারেল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইভিডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় পাঁচগাছী ও হলোখানা ইউনিয়নে ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয়করণের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৭৮টি নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, ১৬টি মামলা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে রেফার এবং ১৮টি অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সংলাপে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ের সমন্বয় জোরদার এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
মন্তব্য করুন