ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও এটিএন বাংলার ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এইচ এম নাসির উদ্দীনের বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমিজমার গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সালমান শিকদার বাবু ও শাকিল শিকদার রাবুর নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী তার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, জমিজমার গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে সাংবাদিক এইচ এম নাসির উদ্দীনকে ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে দেখা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কিত করে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্রও তছনছ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বিরল হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক মহলের অভিযোগ, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এইচ এম নাসির উদ্দীন জানান, তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং আইনগত প্রতিকার চেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করলে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের দাবি, সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
মন্তব্য করুন