পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে এক নারীর লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধনে অংশগ্রহণের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, তেতুলিয়া উপজেলার মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা রেহেনা আক্তার উর্মি (৪০) জেলা প্রশাসকের কাছে ইউএনওর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই নারীকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চাইতে দেখা যায়। জবাবে ইউএনও দাবি করেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সাজানো।
এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অভিযোগকারীকে আমি চিনি না, তার সঙ্গে কখনো দেখা বা কথা হয়নি। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আগেই বাতিল করা হয়েছে এবং তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই।”
অভিযোগের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করে অভিযোগটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার নবীউল করিম সরকার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভিন বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, “কেন তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিষয়টি বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট মানোয়ার হোসেন হানিফ বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় অফিস ত্যাগ করে মানববন্ধন বা অনুরূপ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী। সরকারি চাকরি আইন ও শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মঘণ্টায় দায়িত্বে অবহেলা বা অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
মন্তব্য করুন