
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যেই এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমতে যাচ্ছে। এতে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকাগুলোতে বসতবাড়িসহ সব শ্রেণির গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজি বাজারে চলমান সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকবে। ফলে তিতাস গ্যাসের অধিভুক্ত আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটেরও বেশি গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতির একটি বড় অংশ আমদানিকৃত এলএনজির মাধ্যমে পূরণ করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণকালীন সময়ে সেই সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বসতবাড়িতে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে অনেক জায়গায় চুলায় আগুন না জ্বলার অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। শীত মৌসুমে রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় এই সংকট সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি বাজারেও চলতি মাসের শুরু থেকেই সংকট বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীত মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবহন জটিলতা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পেতে দেরি হচ্ছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।
গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও শিফট কমানো বা আংশিক উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হবে। তবে চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক সরবরাহ ঘাটতি থাকায় সব খাতে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে সংকটকালীন সময়ে গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন