
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে। তপশিল ঘোষণার পর এক মাসেরও বেশি সময়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সমস্ত প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে আচরণবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করেছে। তবে নির্বাচনের আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কিছু অভিযোগও উঠেছে।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে শ্যামনগরবাসী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠা হতাশা ও বঞ্চনার দেয়াল ভেঙে তারা আশা করছেন এমন একজন জনপ্রতিনিধির, যিনি কেবল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেবেন না, বরং নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানেও টেকসই উদ্যোগ নেবেন।
শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের মোট আয়তন ১,৯৬৮.২৩ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭০ এবং ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪৭। উপকূলীয় এ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সুপেয় পানি সংকট, বেড়িবাঁধের দুর্বলতা, কৃষি ও মৎস্য খাতে অনিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থানের অভাব স্থানীয়দের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
স্থানীয়রা শুধু অবকাঠামো নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের মতো মৌলিক সুবিধার দাবি করছেন। ১৬ বছরের দীর্ঘ সময়ে উন্নয়নের অভাবের কারণে তারা এখন একটি পরিপূর্ণ, দূষণমুক্ত ও টেকসই উপ-শহরের স্বপ্ন দেখছেন।
শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের রফিকুল সরদার বলেন, “ঘূর্ণিঝড় এলে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই। আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেই। আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি দুর্যোগের সময় পাশে থাকবেন।”
এছাড়া তরুণ সমাজ কর্মসংস্থান, কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক কৃষি ও মৎস্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে চাইছে। কলেজপড়ুয়া আবু রায়হান বলেন, “আমরা রাজনীতি নয়, কাজ দেখতে চাই। এমন নেতৃত্ব চাই, যিনি তরুণদের কথা শুনবেন।”
বিএনপির প্রার্থী ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, নির্বাচিত হলে সুপেয় পানি, টেকসই বেড়িবাঁধ, উপকূলবান্ধব কৃষি ও মৎস্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের ওপর জোর দেব।
জামায়াতের প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় সমস্যা আলাদা, সমাধানও আলাদা পরিকল্পনায় হবে। নিরাপদ পানি, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও স্থানীয়দের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের মানুষ নতুন দিনের সেই স্বপ্নে বিভোর—একজন জনপ্রতিনিধির জন্য যিনি হবেন জনগণের বন্ধু, দুর্যোগে সহায়ক এবং কার্যকর সমাধানকারি।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন