কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী সংরক্ষণ বাঁধের ঢালে লাউচাষ করে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করছেন কৃষকরা। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে গড়ে উঠেছে লাউয়ের মাচা।রাঙামাটি ও খোঁচাবাড়ি গ্রামের ১০-১২ জন যুবকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ চাষাবাদ দেখে স্থানীয় আরও কয়েকজন বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। বাজারে সবজির তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় গত দুই বছর ধরে এলাকায় সবজি চাষ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ধরলা নদীসংলগ্ন রাঙামাটি ও খোঁচাবাড়ি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের দুই পাশের ঢাল সবুজে ঢেকে গেছে। বাঁশের মাচায় লতানো লাউগাছ ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও ছোট-বড় লাউ ঝুলছে।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধের মাঝের সড়কের দুই পাশে লাউয়ের মাচার মাঝে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি গেট তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও আলোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিকেলে আশপাশের গ্রামের মানুষ সেখানে সময় কাটাতে আসেন।
রাঙামাটির কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাঁধে সাধারণত মেরামতকাজ থাকে না। এ সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তারা বাঁধের ঢালে লাউ চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, বাঁধের দুই পাশে প্রায় ৩০০টি গর্ত করে লাউয়ের চারা রোপণ করা হয়েছে। গর্ত খোঁড়া, বাঁশের খুঁটি ও মাচা তৈরি, দড়ি, গোবর সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার টাকার লাউ বিক্রি হয়েছে। আরও প্রায় ২ লাখ টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন তারা।
আলতাফ হোসেন বলেন, লাউ বিক্রির জন্য তাদের নিয়মিত বাজারে যেতে হয় না। ফুলবাড়ী, লালমনিরহাট, বড়ভিটা, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম সদরের পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকে লাউ কিনে নিয়ে যান।
খোঁচাবাড়ির কৃষক আব্বাস আলী বলেন, বর্ষাকালে চারপাশে পানি থাকায় নিচু জমিতে সবজি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বাঁধের ঢাল উঁচু হওয়ায় সেখানে ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। জমির জন্য আলাদা খরচও হচ্ছে না। পাশাপাশি বাঁধের নিচে পানি থাকায় সহজেই সেচ দেওয়া যায়। এতে উৎপাদন খরচ কমে লাভের সুযোগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাহেনা বেগম বলেন, অন্যদের দেখে তারাও বাঁধের ঢালে করলা, অড়হর, মিষ্টিকুমড়া ও পশুখাদ্যের জন্য ঘাস চাষ করেছেন।
কৃষক মন্তাজ আলী বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ঢাল অনেক সময় খালি পড়ে থাকে। পরিকল্পিতভাবে এসব জায়গা ব্যবহার করা গেলে স্থানীয়দের সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ও হতে পারে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, সবজি চাষে সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হলেও সার সংকট এবং সার-কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাজার তদারকির মাধ্যমে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদী সংরক্ষণ বাঁধের ঢালে ভূমিহীন কৃষকেরা লাউ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাঁধে মেরামতকাজ না থাকায় তারা এই সময়টিকে কাজে লাগিয়েছেন। এতে একদিকে তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও তারা লাভবান হতে পারবেন।
মন্তব্য করুন