পঞ্চগড় সদর উপজেলায় স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে আলম হক (৩০) নামের ওই ব্যক্তিকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া এলাকা থেকে মৌসুমী আক্তারকে আটক করে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ। তিনি নিহত আলম হকের স্ত্রী। আলম একই এলাকার তসলিম উদ্দীনের ছেলে।
নিহত আলম ও মৌসুমীর সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেনের করা অপমৃত্যু (ইউডি) মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মামলায় মৌসুমীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে। একই ঘটনায় বাবুল হোসেন (৩৪) নামে আরও একজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে আলম ও মৌসুমীর বিয়ে হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মৌসুমী স্বামীকে ভাত খেতে দেন। খাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আলম অসুস্থ বোধ করেন এবং পেটে ব্যথা ও বমি শুরু হয়।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে চিনি শরবত খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। এ সময় মৌসুমী শরবতের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে আলমকে খাওয়ান বলে পরিবারের দাবি। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে দেবীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছানোর পর পথেই আলমের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
পরে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হলে খবর পেয়ে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরে মরদেহ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেন থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেন।
পরিবারের দাবি, সোমবার পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীকে ঘটনাটি সম্পর্কে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে আলমের ভাগনে মকছেদুলের কাছে তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য জানান বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন। এরপর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মৌসুমী দাবি করেছেন, বাবুল হোসেন তাকে ওষুধ দিয়েছিলেন এবং সেটি ঘুমের ওষুধ বলে জানিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, বাবুলের চাপ ও ভয়ভীতির কারণে তিনি স্বামীকে ওই ওষুধ খাওয়ান।
নিহত আলমের বড় ভাই আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, মৌসুমীর সঙ্গে বাবুলের প্রায় এক বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। তাদের দাবি, দুজনের পরামর্শেই আলমকে খাবার ও পরে শরবতের সঙ্গে বিষ জাতীয় পদার্থ খাওয়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
তবে বাবুল হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, আলমের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। সোমবার স্থানীয়দের কাছ থেকে মৌসুমীর কথিত স্বীকারোক্তির খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ওসি আরও বলেন, অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হবে। মৌসুমীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে। একই ঘটনায় বাবুল হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন