যশোরের মনিরামপুরে প্রেমঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশ বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইত্যা গ্রামের একটি প্রেমঘটিত বিষয় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজনের সঙ্গে অপর পক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত পক্ষের ফজলুর রহমান (৪৫), আশরাফুল (৩৫) ও শামসুল হক (৩৬) আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর ইত্যা বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাজারে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত লোকজনের অবস্থান দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ রয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের পর তারা দোকান খুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে মারধর করে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কয়েকটি দোকান থেকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, বাজারে বহিরাগত লোকজন জড়ো হয়ে অবস্থান করছে। তাদের দাবি, দুই ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইত্যা বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি বিট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই তুহিনের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার বলেন, “অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পুলিশ এখানে জামায়াতের সমর্থন করছে। তারা দ্বন্দ্ব মীমাংসায় এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাইদ বলেন, ঘটনাটি সত্য। তিন দিন আগে প্রেমঘটিত একটি বিষয় সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সালিশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বিভক্তি থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মাঠে রয়েছে।
মন্তব্য করুন